ভাগ্য ও চেষ্টা—দুই বন্ধু। বহুদিন পর দুজনের দেখা। তাদের বিচিত্র কথোপথনে হঠাৎ আলাপ উঠল, মানুষের জীবনে তারা দুই বন্ধু কে কীভাবে প্রভাব বিস্তার করে থাকে—তা নিয়ে। এক্ষেত্রে চেষ্টার গলার জোর খানিকটা বেশি বলেই মনে হলো। সে বলছিল—‘আচ্ছা আমি যা বলি শোন, মানুষ যদি নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন করে, তাহলে তার জীবন সুখের হবে না কেন? চেষ্টাই তো সব। কিন্তু এই বোকা মানুষগুলো তো চেষ্টা করে না। তারা শুয়েবসে দিন পার করে দেয়। কথায় আছে না—চেষ্টা করিলেই উপায় হয়!’ ভাগ্য বেচারা চুপচাপ চেষ্টার কথা শুনে যাচ্ছিল। বহুক্ষণ পর মুখ খুলে বলল, ‘যা বলেছিস সব ঠিক আছে। কিন্তু চেষ্টার মাধ্যমে মানুষ তখনই সফল হবে, যখন আমি ভাগ্য তার সাথে থাকব।’ চেষ্টা মনে মনে বলে উঠল, ‘দিলি তো আমার সব কথা নাকচ করে।’ চেষ্টাকে চুপ থাকতে দেখে ভাগ্য আবার বলল, “আমার প্রয়োজনীয়তা বুঝেছিস আশা করি। তবু তোকে একটা গল্প শোনাই। এতে আরও স্পষ্ট হবে ব্যাপারটা।
জহির গাড়ি কিনবে। ঘনিষ্ঠ এক বন্ধুর কাছে গিয়ে বলল, ‘বন্ধু, কাল গাড়ি কিনব।’ বন্ধুটি বলল—‘ইনশাআল্লাহ বল।’ জহির বলল, ‘আরে রাখ তোর ইনশাআল্লাহ। টাকা জমিয়েছি। পকেটভর্তি টাকা। গাড়ি তো কিনেই ছাড়ব কাল। হা হা।’ বন্ধু আর জবাব দিল না। জহিরের আনন্দ তাকে স্পর্শ করল না। রাতে জহিরের চোখে ঘুম নেই। পরেরদিন গাড়ি কিনবে, চোখে কেবল তার দৃশ্য ভাসছে। মধ্যরাতেরও পর তার ঘুম এল। আনন্দের আতিশয্যে জানালা বন্ধ করতেও মনে ছিল না। এরইমধ্যে এক চোর জানালার পাশের টেবিলে রাখা তার টাকার ব্যাগটি চুরি করে নিয়ে গেল। সকালে উঠে চোখমুখ ধুয়ে যেই তাকিয়েছে টেবিলের দিকে, ওমনি তার চোখ কপালে উঠে গেছে। আরে আমার টাকার ব্যাগ কোথায়! নেই, কোথাও নেই। তন্নতন্ন করে খুঁজেও পাওয়া গেল না ব্যাগটি। গাড়ি কেনার স্বপ্ন বিলীন হয়ে গেল নিমিষেই। সেদিন বিকেলে জহির মুখ কালো করে বন্ধুর বাসায় গিয়ে হাজির হলো। বন্ধু বলল, ‘কীরে জহির, কোত্থেকে আসছিস? গাড়ি কেনার কথা ছিল না আজ? কিনেছিস নাকি?’ জহির বলল, ‘আজ গাড়ি কেনার কথা ছিল ইনশাআল্লাহ। কিন্তু গতরাতে আমার টাকার ব্যাগটা চুরি হয়ে গেছে ইনশাআল্লাহ। তাই আর গাড়ি কেনা হয়নি ইনশাআল্লাহ।’
হা হা হা! দারুণ না গল্পটা? বেচারা জহির, আগে ইনশাআল্লাহ পড়তে চায়নি, আর এখন স্থানে-অস্থানে সমানতালে জপেই যাচ্ছে! লাভ কী এতে? গাড়ি তো তার ভাগ্যে নেই। আল্লাহ যা চান, তাই হবে। প্রতিটি আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করার সময় ইনশাআল্লাহ বলতে হয়। আচ্ছা যাহোক, তুই বল, জহির তো বহু চেষ্টা করে পয়সা উপার্জন করেছিল। তার সর্বোচ্চ চেষ্টা ছিল গাড়ি কেনার। কিন্তু কিনতে পারেনি। ভাগ্যের সামনে ব্যর্থ হয়েছে তার চেষ্টা। এ ব্যাপারে তোর কিছু বলার আছে?’
চেষ্টার ইচ্ছে করছে বহু কথা শুনিয়ে দিতে। কিন্তু ব্যাটা ভাগ্য খুব চতুর। কৌশলী না হলে তার সাথে কথা বলে সহজে জয়ী হওয়া যায় না। ভেবেচিন্তে চেষ্টা বলল, ‘এসব গল্পটল্প শুনিয়ে লাভ নেই। তোর হাতেও শক্তি আছে, আমিও শক্তি ও বুদ্ধিমত্তায় পিছিয়ে নই। মনপুরা গ্রামের রহিম মিয়া হবে আমাদের লক্ষ্যবস্তু। তাকে নিয়ে আমাদের প্রতিযোগিতা হবে। কে তাকে সফলতা এনে দিতে পারে—তা দেখা যাবে; সময় তিন দিন। তুই রাজি এই গেইমে?’ ভাগ্য বলল, ‘আলবত রাজি। চেষ্টা-প্রচেষ্টাকে আমি ভয় পাই নাকি? চল শুরু করা যাক।’
মনপুরার মাছবিক্রেতা রহিম মিয়া একমনে ভাবছে, নদীর ঠিক কোনদিকে মাছের আনাগোনা বেশি। দক্ষ জেলেরা পানি দেখেই বুঝতে পারে, কোথায় জাল ফেললে বেশি মাছ ধরা পড়বে। এমন গভীর নিমগ্ন মুহূর্তে এক মানুষের রূপ ধরে চেষ্টা আসে তার নিকট। বলে, ‘ওই রহিম মিয়া! এদিকে আসো। শুনে যাও।’ রহিম মিয়া অচেনা আগন্তুকের কথা শুনে জাল রেখে পারে উঠে আসে। মানুষরূপী চেষ্টা বলে, ‘এই রোদের মধ্যে কী কষ্টই না করছ! আহা! আচ্ছা আমি তোমাকে একটা হিরার টুকরা দেব। বহু মূল্যবান। এটা বিক্রি করতে পারলে তোমার কোনো অভাব থাকবে না। লাখ লাখ টাকা পাবে। কিন্তু শোনো, যথাযথ মানুষের কাছে না গেলে কিন্তু লোকে ঠকাবে তোমায়। সাবধান। এই নাও।’ তাই বলে খুব সযত্নে হিরের টুকরাটি রহিম মিয়ার হাতে তুলে দেয় চেষ্টা। মানুষরূপী চেষ্টা চলে যাবার পর আনন্দে আত্মহারা রহিম মিয়া ভাবে, ‘আজ আর মাছ ধরব না। আমি তো এখন লাখ টাকার মালিক। যাই, গোসল করে বাড়ি ফিরে যাই। এরপর নতুন কাপড় পরে সাহেবি ভাব নিয়ে যাবো জুয়েলারির দোকানে।’ গামছার মধ্যে হিরের টুকরো লুকিয়ে রেখে রহিম মিয়া নদীতে ঝাপ দেয়। এরইমধ্যে শুরু হয় তুমুল বাতাস। আকাশ কালো হলে আসে। রহিম মিয়া নদী থেকে উঠে আসবার আগেই বাতাসের ঝটকায় উড়ে গিয়ে কোথায় যেন পড়ে গামছা। তাতে মুড়িয়ে রাখা হিরের টুকরা হারিয়ে যায়। রহিম মিয়া ভেজাগায়ে ঘণ্টাব্যাপী খুঁজেও আর পায় না সেটি। অগ্যতা বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে বাড়ি ফিরে যায়।
পরেরদিন আবার নদীর পাড়ে আসে রহিম। উদ্দেশ্য হিরের টুকরোটি খুঁজে দেখা। কী এক কাণ্ডটাই না ঘটে গেল। কত স্বপ্ন দেখেছিল রহিম মিয়া, এক মিনিটে তা ধূলিসাৎ হয়ে গেল। ঘাসের ফাঁকে ফাঁকে সতর্কদৃষ্টিতে হিরেটি খুঁজে দেখছিল রহিম—এরইমধ্যে পেছন থেকে কেউ তাকে ডাক দেয়, ‘রহিম মিয়া! তুমি এখানে কেন?’ পেছনে ফিরে রহিম মিয়া দেখে—গতকালের হিরের টুকরোদাতা লোকটি দাঁড়িয়ে আছে। তাকে দেখে রহিম মিয়ার মুখ আরও শুকিয়ে যায়। মানুষরূপী চেষ্টা বলে, ‘বুঝেছি, যা ভেবেছিলাম তাই, তুমি হিরের টুকরো হারিয়ে ফেলেছ তাই না?’ রহিম মিয়া কথা বলে না, কেবল মুখ নীচু করে রাখে। চেষ্টা বলে, ‘আচ্ছা চিন্তার কারণ নেই। মূল্যবান হিরে হারিয়েছ তোমার বোকামির ফলে। কেন গিয়েছিলে গোসল করতে! আচ্ছা, এবার তোমাকে একটি সোনার হার দিচ্ছি। এটা খুব সাবধানে বাড়ি নিয়ে যাবে। কোনোভাবে যেন হারিয়ে না যায়।’ রহিম মিয়ার মুখ আবারও চকচক করে উঠে। আবারও মনের ভেতর লাখ টাকার মৃত স্বপ্নটি জাগ্রত হয়। আগন্তুকের কৃতজ্ঞতা যেন শেষ হবার নয়। মাথা নুয়ে গ্রহণ করে খাঁটি সোনার লালচে হারটি। আজ আর গোসল নয়, সোজা বাড়ির পথে এগিয়ে চলে রহিম। নদীর তীর থেকে আকাশমণির বন পেরিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল সে। সেইসাথে ঠিক মুখ বরাবর দুহাতে সোনার হারটি ধরে একমনে দেখছিল আর ভাবছিল—‘আসলেই কি খাটি সোনা?’ এমনই সময় কোত্থেকে এক চিল উড়ে এসে তার হাত থেকে হারটি ছিনিয়ে নিয়ে আবার কোথায় যেন উড়ে যায়। সেকেন্ডের মধ্যেই এমন অযাচিত ঘটনা ঘটে। ওই ভদ্রলোক বলেও দিয়েছিল, ‘যেহেতু বনবাঁদাড় পেরিয়ে যাবে, হারটি কিন্তু সাবধানে রেখো। এমন লালচে জিনিস দেখলে চিল গোশত মনে করে থাবা মারতে পারে।’ রহিম মিয়ার মনে ছিল না কথাটি। মনে থাকবেই বা কেন—এই বনে বিগত বিশ বছর ধরে কখনও চিলের দেখা পায়নি রহিম। কিন্তু আজ এ কী হলো! আবার স্বপ্নভঙ্গ! ওই ভদ্রলোক আসলে মানুষ নাকি জিন! সে কেনই-বা এতকিছু তাকে দিচ্ছে! আবার কোনো না কোনোভাবে তা হারিয়েও যাচ্ছে। নানান চিন্তা মাথায় ঘোরপাক খেতে থাকে রহিমের।
পরেরদিন ওই ভদ্রলোকের দেখা পেতে আবারও রহিম মিয়া নদীর তীরে যায়। সে ভেবেই নিয়েছে, ওখানে গেলেই তার দেখা পাওয়া যাবে। যেহেতু পরপর দুদিন ঘটে গেছে দুটো ঘটনা, আজ নিশ্চয়ই সে আবার কিছু নিয়ে হাজির হবে। অর্থবিত্তের লোভ রহিমকে অন্ধ বানিয়ে দেয়। রহিম নদীর তীরে দাঁড়িয়ে থাকে। এমন সময় দূর থেকে দেখা যায়—সেই লোকটি আসছে। রহিম গভীর আকাঙ্ক্ষার দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে লোকটির আগমনপানে। কাছাকাছি আসতেই রহিম বলে, ‘ভাই, যা বলেছিলেন তাই ঘটেছে। চিল ছো মেরে নিয়ে গেছে সোনার হার। কী করি এখন বলুন!’ চেষ্টা বলে, ‘তুমি তো নিজের কপাল নিজেই পুড়লে। আমি সতর্ক করে দেবার পরও তুমি সতর্ক থাকোনি। আচ্ছা, শেষবারের মতো আমার সাথে তোমার সাক্ষাৎ হচ্ছে। কাল থেকে তুমি হাজারবার নদীর তীরে এলেও আমাকে খুঁজে পাবে না। আমি আজ তোমাকে এক লক্ষ টাকার একটা বান্ডেল দিচ্ছি। এ টাকা দিয়ে তুমি কিছু করে খাও। ব্যাবসা-বাণিজ্য শুরু করো।’ এই বলে তার হাতে এক লক্ষ টাকার একটা বান্ডেল তুলে দেয় লোকটি। টাকা নিয়ে রহিম মিয়া মনের সুখে নাঁচতে নাঁচতে বাড়ির পথে এগিয়ে যায়। সবকিছু যেন স্বপ্নের মতোই ঘটে যাচ্ছে। এ যেন আলাদিনের চেরাগ পাবার মতো ঘটনা। বাড়িতে গিয়ে রহিম মিয়া পড়ে ভারি মুশকিলে। টাকার বান্ডেল রাখবে কোথায়? এত টাকা দেখে তো স্ত্রী ভাববে—স্বামী তার ডাকাতি করে এসেছে। ওই ভদ্রলোকের কথা বলে বিশ্বাসও করানো যাবে না। কে অযথা কাউকে এক লক্ষ টাকা দেয়? রহিম মিয়া আপাতত খড়ের স্তুপের নীচে বান্ডেলটা রেখে ঘরে গেল। পরে বুঝেশুনে একটা সুবিধা করা যাবে।
পাশের বাড়ির মহিলাটি চুলায় আগুন ধরাবে। একটু খড় দরকার। রহিম মিয়ার খড়ের স্তুপের নীচের দিক থেকে খড় সরিয়ে নিতেই মহিলার চোখ কপালে উঠে যায়। আরে এ দেখি টাকার বান্ডেল! আড়চোখে চারিদিক দেখে সুযোগ বুঝে বান্ডেলটি তুলে শাড়ির আচলে লুকিয়ে নেয়। এরপর সড়ে যায় সেখান থেকে। খানিক বাদে রহিম মিয়া বান্ডেলের তালাশে খড়ের স্তুপে হাত দিতেই দেখে—বান্ডেল নেই! লাখ টাকার বান্ডেল উধাও! তবে কি সব মিথ্যে ছিল? লোকটি বলেছে কাল থেকে আর আসবে না! তাহলে রহিম মিয়ার ভাগ্যের চাকা ঘুরবে কীভাবে! এসব ভাবতে গিয়ে চিৎকার করে কেঁদে ওঠে রহিম। স্ত্রী দৌঁড়ে আসে। জিজ্ঞেস করতেই রহিম মিয়া গত তিনদিনের ঘটনা সবিস্তারে খুলে বলে। স্ত্রী সব শুনে তাচ্ছিল্যের সুরে বলে—‘অদ্ভুত সব কথাবার্তা আপনার। মাথাটা নষ্ট হয়ে গেছে। পাগলের ডাক্তার দেখাতে হবে। এইসব আজগুবি কথা বাদ দিয়ে এখন মাছ ধরতে যান। ঘরে খাবার নেই। আসার সময় বন থেকে কাঠ কেটে আইনেন; বাড়িতে কাঠও শেষ।’
তবে কি সত্যিই সবকিছু মিথ্যে? রহিম মিয়ার বিশ্বাস হয় না। ওই লোকের সামনেও সে আঙুল কামড়ে স্বপ্ন-বাস্তব যাচাই করে নিয়েছে। বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলাচলে ঘুর্ণায়মান অবস্থাতেই রহিম মিয়া ফের ছুটে চলে জালহাতে নদীর তীরে। আজ আর তার মাথায় ওই লোকের আশা নেই। সে বলে দিয়েছে আর আসবে না। সত্যিই এল না। রহিম মিয়া মাছ ধরে বনের ভেতর কাঠ কাটতে ঢোকে। হঠাৎ একটি গাছের গোড়ায় দেখা যায়—একটি পাখির বাসা পড়ে আছে, তাতে কিছু একটা চকচক করছে, দূর থেকে বোঝা যাচ্ছে তার উজ্জলতা। রহিম মিয়া দ্রুত পতিত পাখির বাসাটির কাছে গিয়ে দেখে, সেই সোনার হারটি পড়ে আছে, যেটি তার হাত থেকে ছো মেরে নিয়ে গিয়েছিল চিল। রহিম মিয়া পাখির বাসা থেকে সোনার হারটি তুলে নেয়। আনন্দে চিৎকার করে ওঠে সে। একদৌঁড়ে বাড়ি ফিরে চিৎকার করতে করতে স্ত্রীকে বলে—‘কই গো! এদিকে আসো। একটা বড় ঘটনা ঘটে গেছে। দ্রুত আসো।’
এ চিৎকারের শব্দ শুনে পাশের বাড়ির ওই মহিলা ভাবে, ‘হয়তো টাকা চুরির ঘটনাটা জেনে গেছে রহিম মিয়া। এবার যদি আমাকে ধরে ফেলে, কী উপায় হবে? জেলহাজতে ঢুকিয়ে দিলে তো লাখ লাখ টাকা গচ্ছা যাবে।’ এসব ভেবে মহিলাটি টাকার বান্ডেল নিয়ে হাজির হয় রহিম মিয়ার বাড়িতে। বলে—‘ও রহিম ভাই! টাকাপয়সা মানুষ এভাবে রাখে? আমি ছাড়া অন্য কেউ যদি নিয়ে যেত, কেমন হতো বলেন তো? এই নিন, সিন্দুকে ঢুকিয়ে রাখুন।’
রহিম মিয়া হতবাক হয়ে বান্ডেলটি হাতে নেয়। তারচে বেশি বিস্ময়ভরা চোখে তাকিয়ে থাকে রহিম মিয়ার স্ত্রী। এসব কী হচ্ছে! ওদিকে নদী থেকে ধরে আনা বড় রুই মাছটি কেটে দেখে, মাছের পেটে সেই হিরকখণ্ডটি, যেটা বাতাসের ঝাপটায় হারিয়ে গিয়েছিল। এ তিন মহামূল্যবান বস্তু পেয়ে রহিম আনন্দে পাগলপারা হয়ে যায়। তার ঘরে সুখের বন্য বয়ে যায়।
তিনদিন পর আবার দেখা হয় ভাগ্য ও চেষ্টার। ভাগ্যের মুখে তৃপ্তির হাসি, চেষ্টার মুখ অমাবশ্যার মতো নিকষ কালো। ভাগ্য বলে—‘বুঝলে তো ভাগ্যের শক্তি? মানুষের কপালে আল্লাহ যা লেখেননি, হাজার চেষ্টা করলেও তা অর্জন করা সম্ভব নয়। তুমি আমাকে প্রবাদ শুনিয়েছিলে—চেষ্টা করিলেই উপায় হয়; আমি তোমাকে আরেকটা প্রবাদ শোনাই—ভাগ্যের লিখন না যায় খণ্ডন। তাই বলে তোমাকে ছোট করছি না। চেষ্টার প্রয়োজন আছে। মানুষকে চেষ্টা করতে হবে অবশ্যই, তবে আল্লাহর প্রতি আস্থাও রাখতে হবে। তকদিরের উপর বিশ্বাস রাখতে হবে। তিনি যা দিতে চান, তা যেকোনোভাবে দিয়ে দিতে পারেন। না দিতে চাইলে চেষ্টার মাধ্যমে তা অর্জন করা যায় না। আজ তাহলে বিদায় নিই, তোমার সাথে আবার দেখা হবে বন্ধু।’