সূচীপত্র

দিনলিপি

আল মাহমুদ কহেন

4 January, 2026

আল মাহমুদ এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘কাবিলের বোন একটা পরিপূর্ণ উপন্যাস। এই মানের উপন্যাস বাংলা সাহিত্যে খুব কমই আছে। মানিক বন্দোপাধ্যায়ের পদ্মানদীর মাঝি ও অন্য দুয়েকটা উপন্যাস ছাড়া আর কোনো বই আমি দেখি না৷ উপন্যাসের আঙ্গিক-রীতি ও স্থাপত্যকৌশল পুরোপুরি মেনে এই বই লিখেছি৷’
সাহিত্য-সমালোচকদের বিচারে একথা ভুল-শুদ্ধ হতে পারে। তবে আমার মতে, আমাদের মতো উঠতি তরুণ লেখকদের এ দম্ভ ও আত্মবিশ্বাস থাকা চাই। নিজের লেখার প্রতি একধরনের উন্মাদনা থাকা চাই৷ যেটা আল মাহমুদের ছিল। তিনি তার ‘পানকৌড়ির রক্ত’-কে সার্থক ছোটগল্প এবং ‘সোনালি কাবিন’-কে সার্থক কাব্যগ্রন্থ দাবি করেছেন। তিনি ‘কাবিলের বোনকে’ সার্থক উপন্যাস দাবি করতে দ্বিধাবোধ করেননি৷ নিজের সৃষ্টকর্মকে ইনিয়েবিনিয়ে ‘ভালো’ বলতে চাননি, বলেছেন বুকটান করে।
আমাদের উঠতি লেখকদের চরিত্র এক্ষেত্রে বর্ণচোরা গর্তে থাকা ইদুরের মতো। এ যেন লুঙ্গি উঁচিয়ে মুখ ঢেকে রাখবার মতো ব্যাপার। মহারত্ন ফাঁস করেছি, তোমরা দেখো, প্রশংসা করো, ক্ষেত্রবিশেষ ভালোর সাথে কিছু মন্দও বলতে পারো, আমি চুপচাপ। বই একখান লিখেছি, এই তো আমি কাগুজে সন্তানের জন্মদাতা। এ কি কম ঝক্কিঝামেলার কাজ?
কদিন পর যোগ্য সমালোচকদের হাতে পড়ে যখন তার ‘কাগুজে সন্তান’ বেধড়ক পিটুনি খায়, তখন জন্মদাতা পিতা ব্যস্ত হয়ে পড়েন সন্তানকে লুকাতে। কোথায় লুকাবেন? সন্তান তো ফের মাতৃগর্ভে যেতে পারে না। সৃষ্টিসুখের উল্লাস তো দূরে থাক, তখন লেখক পড়ে যান এক মহাযন্ত্রণায়।

১৬ই আগস্ট, ২০২৩

শেয়ার করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সম্পর্কিত পোস্ট