জীবন যাচ্ছে চলে, ঘড়ির কাঁটার সাথে পাল্লা দিয়ে। আমরা শৈশব কৈশোর পেরিয়ে কণ্টকাকীর্ণ যৌবন অতিক্রম করছি৷ খুব আফসোস হয়, একটা জীবন একাকী যাচ্ছে কেটে৷ মাঝেমধ্যে একাকীত্বকে উপভোগ করি, সবাইকে বলে বেড়াই, একা আছি বেশ ভালো আছি৷ কিন্তু সত্যিই কি এত পাষাণহৃদয় আমি? একা থেকেও ভালো থাকা যায়?
পরিবার-বিচ্ছিন্ন হয়েছি সেই যে হেফজখানার যুগে, মাতৃক্রোড়ে আজও আর ফেরা হয়নি৷ খুব মনে চায়, সব ছেড়ে মা-বাবার সাথে, স্ত্রী-সন্তানের সাথে বাকি জীবনটুকু কাটিয়ে দিই৷ কিন্তু ওই যে নির্মম নিষ্ঠুরতা এ জীবনের, পৃথিবীতে বসবাসের উপকরণ যোগাবার যে নিদারুণ তাড়না, এ তো ঘরে ফিরতে দেয় না৷
সপ্তাহের একটি দিন তিরের বেগে ফুরিয়ে যাবার পর শনিবার সুবহে সাদেকেরও আগে যখন সুনসান পথ ধরে ঢাকাগামী প্রথম বাস ধরবার জন্য দ্রুত পা ফেলে এগিয়ে চলি, কানের ভেতর বাজতে শুরু করে ছেলের কণ্ঠস্বর—’তুমি চলে গেলে কিন্তু আমি রাগ করব!’
পুত্রের অভিমান, সহধর্মিণীর ব্যথাতুর চাহনি, মায়ের মনের শঙ্কা আর বাবার নিষ্ঠুর বিদায়—সব পিছে ঠেলে জীবিকার শহরে ছুটে চলি। কখনও কারও প্রতি অভিমান করবার ফুরসতটুকু মেলে না৷ এ নিষ্ঠুরতম জীবনের অন্তিম কোথায়?
১৮ই জানুয়ারি, ২০২৬