সূচীপত্র

বইকথন

শতাব্দীর চিঠি : উত্তরাধুনিক মাকতুবাত বা পত্রইতিহাস!

22 December, 2025

প্রারম্ভিক কথা

শতাব্দীর চিঠি! নামের ভেতর লুকিয়ে আছে শতাব্দীর অমূল্য ইতিহাস। যে ইতিহাস আমাদের জাতিসত্তাকে বহন করেছে দীর্ঘকাল। যে ইতিহাস অযত্নে অবহেলায় ‘মরিচাধরা’ হয়েছে। প্রজন্ম ভুলেছে ও অকৃতজ্ঞ হয়েছে। বইটির লেখক, ইতিহাসবিদ মুসা আল হাফিজ সেই অযত্নে ফেলা ইতিহাসকে বিস্মৃতি থেকে কুড়িয়ে শব্দের প্রচ্ছদে জাতিকে দেখাতে চেয়েছেন।

পঁচানব্বই পৃষ্ঠার চিঠি যাকে উদ্দেশ্য করে লেখা হয়েছে সেই ব্যক্তিটি সুলতানী আমলের বাংলার বিখ্যাত দরবেশ ও আলেম নুর কুতুবুল আলম রহ.। লেখকের ইতিহাস বলার উদ্দেশ্য ও ইতিহাস শোনার স্বার্থকতা হচ্ছে— ইতিহাসের পূণরাবিষ্কার। সেই ব্যক্তির উপর ভর করে তখনকার সমাজ, সংস্কৃতি, রাজনীতির চিত্রায়ন। মহান এই ব্যক্তিটির নাম এই প্রজন্মের সিংহভাগ তরুণ জানে না। অথচ দীর্ঘ একটি শতাব্দীর নাটকীয় সব গল্প জন্মেছে এই মনীষীকে ঘিরে।

প্রেক্ষাপট

আর্য, পাল, সেনদের অত্যচারিত সমাজকে বখতিয়ার খিলজির বিজয়ের মধ্য দিয়ে পুনরুদ্ধারের পর দীর্ঘ বিরতি গেলো। গণেশ নারায়ণ যখন ব্রাহ্মণশাসনের সেই সময়কে ফিরিয়ে আনতে একের পর এক মুসলিম সুলতানদের মাথা কেটে উল্লাস করছিলো, ঠিক সে সময় পুরো একটি জনপদকে যুগের ভয়াবহ আক্রোশ থেকে মুক্ত করতে তৎকালীন জ্ঞান ও আধ্যাত্মিকতার স্বর্গভূমি পাণ্ডুয়ায় বসে ভাবছেন একজন। রক্তের বন্যায় ভেসে যাওয়া সুলতানদের মস্তকগুলোর আবছায়ায় বসে মুসলিমগোষ্ঠী ও বাংলার সংকট উত্তরণে একজন নুর কুতুবুল আলম। তিনি কি পেরেছেন শতাব্দীর সেই মহাযজ্ঞ থামাতে? সুলতানী আমলের সেই সোনালী সময়গুলোকে প্রেক্ষাপট বানিয়ে তুলে ধরা হয়েছে মুসলমানদের সেই গৌরবময় ইতিহাস।

বইয়ের ভেতরে

বই শুরু হয়েছে ১১৩ বছরের ধারাবাহিকতায় বাংলা ও বাঙালিকে কোনঠাসা করে রাখা সেন রাজাদের মুখোমুখি হয়ে। রাজা লক্ষণ সেনের দুঃশাসন ও বঙ্গবিজয়ী বীর বখতিয়ার খিলজিকে দিয়ে। বিনাযুদ্ধে খিলজির বঙ্গবিজয়ের মাধ্যমে খুলে গেলো এই জাতির শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধির দোয়ার। এক হলো সব বিক্ষিপ্ত জাতিগোষ্ঠী। মুসলিমদের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে অগণিত হিন্দু বৌদ্ধ এলো ইসলামের ছায়ায়। ব্রাহ্মণদের বৌদ্ধ বিনাশ ও সেন, পাল রাজাদের বাঙালিবিদ্বেষ পরাজিত হলো মুসলিমদের আমলে। বাংলা সাহিত্য পেলো নবজীবন, সজ্জিত হলো নববিকাশে।

এরপর লেখক মূল চরিত্রদের এনেছেন। বইটিকে যদি তার চরিত্রের ডালপালা ছেঁটে সংকুচিত করা হয়, মৌলিকভাবে দুটি চরিত্রের সাক্ষাত পাওয়া যায়। যাদের ঘিরে আবর্তিত হয়েছে বাকিরা। একজন ফকিরি গ্রহণ করা খানকাহর দরবেশ নুর কুতুবুল আলম। আরেকজন ইলিয়াস শাহ’র রাজবংশের তৃতীয় সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ। এই দু’জন বাল্যবন্ধু ছিলেন, দার্শনিক হামিদুদ্দিন নাগোরির শাগরিদ ছিলেন। একজন ছিলেন ন্যায়পরায়ণ বাদশাহ, আরেকজন সিরাজুদ্দিন আখি সিরাজের আধ্যাত্মিক রাজধানী পাণ্ডুয়ার ধারকবাহক। ইতিহাস এই দুজনকে মিলিয়ে দিবে অদ্ভুত সমীকরণে। শাহী তখত আর খানকাহর গদি মিশে যাবে বাংলার জনপদের ভবিষ্যত নির্বাচনে।

খালেদ ইবনে ওলিদ রা. এর বংশের একটি শাখা স্থায়ী হন লাহোরে। সেই বংশের খ্যাতিমান এক মনীষী ছিলেন উমর ইবনে আসাদ খালেদি। লাহোর ছেড়ে তিনি থিতু হন দিল্লিতে৷ বহুমাত্রিক জ্ঞান ছিলো তার। ১৩০১ খ্রিস্টাব্দে আলাওল হক জন্ম নেয় তার ঘর আলোকিত করে। দিল্লি ছেড়ে তারা বাংলায় ছুটে আসেন৷ বাংলায় বড় হতে থাকে আলাওল হক। বিদ্যা, অর্থ-বিত্ত, বুদ্ধি, বংশমহিমার প্রতাপে ভারতজুড়ে আলাওল হকের লক্বব হয় গঞ্জেনাবাত। কিন্তু আলাওল হকের জীবনে এলো পরিক্ষা। তিনি বিলাসী হলেন। রাজাদের মত জীবন হলো। এরপর হারালেন বাকশক্তি। হারালেন চোখের স্বাভাবিক জ্যোতি। এই জ্যোতি ও বাকশক্তি ফিরে আসে তারই সমকালীন দরবেশ আখি সিরাজের ছোয়ায়। আখি সিরাজ পাণ্ডুয়ায় এলো। জীবনকে বদলে বিলাসী আলাওল মুরিদ হলেন আখি সিরাজের৷ খেলাফত পেলেন। আখি সিরাজের কন্যাকে বিয়ে করলেন ও পাণ্ডুয়ার খানকাহ এলো তার দায়িত্বে। আলাওল হকের শিষ্যত্ব গ্রহণ করলেন অবিভক্ত বাংলার প্রথম স্বাধীন মুসলিম শাসনকর্তা শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ। ১৩৫৭ সালে তার মৃত্যুর পর ক্ষমতায় বসা সিকান্দার শাহও শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন আলাওলের। আলাওলের ঘরে জন্ম নিলো এক শিশু। হামিদুদ্দিন নাগোরি যাকে প্রথম দেখায় বলেছে ‘এ শিশু হবে নামজাদা দরবেশ। মহান আলেম।’ সেই শিশু নুর কুতুবুল আলম।

অবিভক্ত বাংলার প্রথম স্বাধীন মুসলিম শাসনকর্তা শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ’র ছেলে সিকান্দার শাহ’র দুই স্ত্রী ছিলো৷ প্রথম স্ত্রীর ১৭ সন্তান, ২য় স্ত্রীর কেবল এক সন্তান। কিন্তু ইলিয়াস শাহির সিংহাসন রক্ষায় সেই একজন ছিলো যোগ্য। তিনি গিয়াস উদ্দিন আজম শাহ। পিতার সিংহাসন নিয়ে শুরু হয় ভয়াবহ ষড়যন্ত্র। ষড়যন্ত্র রুখতে আজম শাহ’র লড়াই হয় নিজের পিতার সাথে। অজান্তে কোন সৈন্যের হাতে মৃত্যু হয় সিকান্দার শাহের। আজম শাহ অধিকার করেন সিংহাসন৷

গণেশ নারায়ণ ছিলো সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ’র উপদেষ্টা। সম্প্রীতির এক দৃষ্টান্ত ছিলো তার সময়ে৷ গণেশ ভেতরে ভেতরে পুষতো রাষ্ট্রদ্রোহ। সম্পর্ক রাখতো রাজ্যের শত্রুপক্ষ শিব সিংহের সাথে, কামরুপরাজ্যের সাথে৷ ভেতরে থাকা দ্রোহের আগুন ষড়যন্ত্রের রুপ ধরে আবর্তিত হয় আজম শাহ’র সালতানাতে৷ সুলতানের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুললো একটি চক্রকে৷ আপন ভেবে পাশে রাখা গণেশের চক্রান্তে শহীদ হলেন ইতিহাসের মহান শাসক গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ। তখনও গণেশের মুখোশ খুলেনি। মসনদে বসেন আজম শাহ’র ছেলে সুলতান সাইফুদ্দিন হামজা শাহ৷ গণেশ তার সাম্প্রদায়িক চক্রান্তে হামজা শাহের বিশ্বস্ত চাকর শিহাবুদ্দিনকে ক্ষমতার লোভ দেখিয়ে হত্যা করায় হামজা শাহকে৷ এরপর ক্ষমতা পেলো শিহাবুদ্দিন, তবে একবছরের মাথায় অলিখিত শাসক গণেশের চক্রান্তে নিহত হলো সে-ও। শিহাবুদ্দিনের ছেলে আলাউদ্দিন ফিরোজ শাহ রাষ্ট্রের হাল ধরতে চাইলে তাকেও হত্যা করে গণেশচক্র। এতদিনে গণেশের মুখোশ খুলেছে। মুসলিমহত্যা শুরু হলো। মুসলিমদের বাংলায় নিষিদ্ধ করার প্রয়াস চললো। সিকান্দার শাহ’র তৈরি বাংলার প্রধান মসজিদ আদিনা মসজিদে দেবমূর্তি ঢুকলো। শতাব্দীর গড়ে তোলা সম্প্রীতির সাম্রাজ্য শেষ হতে চললো। শেষ পেরেক ঠোকা ছিলো বাকি।

খানকাহ থেকে অশ্রুসিক্ত নয়নে বাংলার সোনালী যুগের বিপন্নতা দেখছিলেন নুর কুতুবুল আলম। পিতা আলাওল হকের শিষ্যত্ব নিয়ে এই রাজ্যের শাসনকার্যে পরিশুদ্ধতা এনেছিলেন ইলিয়াস শাহ, সিকান্দার শাহ। তার পরামর্শ গ্রহণ করে রাষ্ট্র চালিয়েছেন আজম শাহ। পাণ্ডুয়া থেকে সোনারগাঁ— খানকাহর প্রভাব ছিলো শাহী তখতে৷ আখি সিরাজ থেকে নুর কুতুবুল আলম— দরবেশদের প্রভাব ছিলো শাসকদের আত্মায়। কিন্তু লুকিয়ে বেড়ে উঠা গণেশদের ষড়যন্ত্র কীভাবে সামলাবেন রাষ্ট্রের এই মহান আলেম? কীভাবে সম্পন্ন করবেন তার দায়িত্ব?

তার চিঠি গল্পের মোড় তৈরি করলো। তিনি চিঠি লিখলেন জৈনপুরের শক্তিমান শাসক ইবরাহীম শর্কির কাছে৷ মনুবাদী গণেশের হাত থেকে উদ্ধার করতে আহ্বান করলেন মুসলিমদের এই শাহী তখতকে। ইবরাহীম শর্কিকে উদ্বুদ্ধ করতে পত্র লিখলেন জ্ঞানতাপস মির সাইয়িদ আশরাফ জাহাঙ্গীর সিমনানির কাছে। হিন্দু রাজা আর মনুবাদের জোটবদ্ধ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে এগিয়ে এলো ইবরাহীম শর্কি৷ শর্কির শক্তির সামনে গণেশ ছিলো ক্ষুদ্র! মৃত্যুর সামনে পড়ে গণেশ নতুন উপায় বের করলো। নুর কুতুবুল আলমের কাছে গিয়ে ক্ষমা চাইলো, পায়ে পড়লো। ক্ষমা পেলো একটি শর্তে। গণেশ তার ছেলেকে মুসলিম বানালো। ১২ বছর বয়সী যদু মুসলমান হয়ে হলো জালালুদ্দীন৷ তাকে ক্ষমতায় বসানো হলো। কিন্তু ইবরাহীম শর্কির মৃত্যুর পর গণেশ আবার সক্রিয় হলো। ছেলেকে বন্দী করলো। এবার অত্যাচার বেড়ে নুর কুতুবুল আলম পর্যন্ত পৌঁছলো। ছেলে শেখ আনওয়ার শহীদ হলেন গণেশের হাতে। নুর কুতুবুল আলম হলেন একা। কিন্তু আলো ছড়ালো তার হাতে কালিমা পড়া সেই যুবক৷ অন্ধকার কারাগার থেকে গণেশের সহকর্মী শঙ্করকে হিদায়াতের আলো দেখায় যদু থেকে হওয়া জালালুদ্দীন৷ শঙ্কর থেকে হওয়া আব্দুল কাদির এক রাতে গণেশের শ্বাস থামিয়ে দেয়। শেষ হয় একটি জঘন্য অধ্যায়। বাংলা সুরক্ষিত থাকে। আর্যযুগের পুনরাবৃত্তি ঘটলো না৷ ১৪১৮ সালে বাংলার শাসক হলেন জালালুদ্দিন মুহাম্মাদ শাহ৷ ১৫ বছর তিনি বাংলা শাসন করলেন৷ খানকাহ থেকে ‘সফলযুদ্ধ’ করা নুর কুতুবুল আলম তার শাসনামলের শুরুরদিকে ইন্তিকাল করলেন। অখ্যাত এই লোকটির জন্য যুগ যুগ পর একটি সোনার বাংলা পেলো একটি জাতি।

রচনাশৈলী

বইয়ের দৃশ্যপট বারবার পেছনে টেনে নিয়ে যাবে। বখতিয়ার খিলজি থেকে শুরু হওয়া ইতিহাস এসে থামে সুলতান জালালুদ্দিন মুহাম্মাদ শাহ পর্যন্ত। এর মাঝে বাংলা সাহিত্যের নববিকাশ, হাফিজ সিরাজির কবিতা, পাণ্ডুয়ার সুবিশাল খানকাহ, আখি সিরাজের মহানুভবতা, যুগশ্রেষ্ঠ হাদিসশাস্ত্রবিদ ইয়াহইয়া মানেরি ও তার উস্তাদ আবু তাওয়ামা, জ্ঞান-বিজ্ঞানের শহর সোনারগাঁ, মাওলানা হোসামুদ্দিন মানিকপুরী, সুফিদের সরদার শেখ বদরুল আলমের দৃঢ়তা ও নুর কুতুবুল আলম থেকে শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভি রহ. পর্যন্ত ইতিহাসের বিভিন্ন যোগসুত্র উল্লেখ হয়েছে বইয়ে৷ একটানে পঁচানব্বই পৃষ্ঠার বইটি পড়লে জেনে ফেলা যায় ব্রাহ্মণ, আর্য, পাল সেন শাসন ও সুলতানী আমল, মুসলিম সাম্রাজ্য ও মুসলিম সভ্যতাসহ ইতিহাসের নানাদিক। এই ইতিহাসগুলো পড়লে একজন মুসলিম গর্বভরে বলতে পারে এই ভুখন্ড আমার।

লেখক বইটিকে চিঠির আঙ্গিকে লিখেছেন। একটি দীর্ঘ পত্রের মত বইটিতে নুর কুতুবুল আলমের পুর্নাঙ্গ জীবনকে ধারণ করিয়েছেন। শেষদিকে তার অনুসারীদের ধারাবাহিকতা ও তার বংশধারা বর্ণনা করে একটি জীবনকে পূর্ণতা দেওয়া হয়েছে। উপন্যাসের ধাঁচে এগিয়ে গেছে গল্পের প্লটগুলো। তৈরি হয়েছে রহস্য। আপাতদৃষ্টিতে বইটিকে চিঠি হিসেবে দেখতে পাওয়া যায়। প্রথম পর্বটি পড়ার পর পাঠক একটি পত্রোপন্যাসের ঘ্রাণ পাবেন। শেষদিকে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনগ্রন্থের মত মনে হয়।

ব্যক্তিগত মূল্যায়ন

শতাব্দীর চিঠি কেবল একটি চিঠি নয়, একটি প্রামাণ্যচিত্র। পাঠক হারিয়ে যাবেন সেই সোনালী যুগে। বোধ তৈরি হবে নিজেকে চেনার। লেখক আমাদের জাতিসত্বার পরিচয় তুলে ধরতে চেয়েছেন৷ নুর কুতুবুল আলমকে ঘিরে আলোচনা করে প্রাসঙ্গিক বিভিন্ন চিত্রে দেখাতে চেয়েছেন ইতিহাসের এক বিশাল অংশজুড়ে আমরা ছিলাম। এখন আমরা তা ভুলে বসেছি। নুর কুতুবুল আলমের জীবনকে দেখলে আরেকটি বিষয় স্পষ্ট হয়, আলেমদের সাথে রাষ্ট্রের সম্পর্ক কেমন হতে পারে! তিনি রাষ্ট্র থেকে নিজেকে দূরে রেখেছেন, আবার জড়িয়েও রেখেছেন। খানকাহ’র প্রাঙ্গণ থেকেও করেছেন রাষ্ট্রনৈতিক লড়াই। রাষ্ট্রকে মুক্ত করেছেন ব্রাহ্মণবাদীদের থেকে। লেখক এই যুগের আলেমদের দেখাতে চেয়েছেন নুর কুতুবুল আলমের মত ক্ষমতাবিমুখ অথচ রাষ্ট্রের অভিভাবক, শুভাকাঙ্ক্ষীকে। রাষ্ট্রকে দেখাতে চেয়েছেন গণেশদের মত আড়ালে থাকা হিংস্রদের ভয়াবহতাকে। মুসলমিদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা লোকগুলোকে দেখাতে চেয়েছেন মুসলিমদের গৌরবমাখা ইতিহাস। হোক চিঠি, উপন্যাস কিংবা জীবনীগ্রন্থ—লেখক তার উদ্দেশ্যে সফল। বাংলায় মুসলমানদের ইতিহাসপাঠের ছাত্রদের জন্য বইটি অবশ্যপাঠ্য।

শেয়ার করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সম্পর্কিত পোস্ট