বহুকাল পর বন্ধু সুহাইলকে দেখলাম। সেই কৃশকায় বদনখানা নিয়ে শীতের সকালে অজপাড়াগাঁর কোনো মসজিদ থেকে বেরোচ্ছে। চওড়া-হাসির মুখটি সামান্য মলীন। ওর শান্ত চোখদুটো সামান্য লাল। অবিরত নাক টানছে, বোধহয় ঠান্ডা লেগেছে। চিরচেনা ভঙ্গিতে আমায় দেখে এগিয়ে এলো। সেই ‘দাদা’ সম্বোধন। মেখলের আটটি বছর যে শব্দে সোহাইল আমাকে ডেকে গেছে রাতদিন। সাদা জুব্বায় আজ ওকে লাগছে ফকফকে কবুতরছানার মতো। এই বুঝি গাঁয়ের বিস্তীর্ণ শরিষাখেতের আইল ধরে উড়ে যাবে। এগিয়ে গেলাম কাছে। সামান্য ঠাট্টা করলাম। নয়টি বছর আমরা এভাবেই ঠাট্টা-বিদ্রুপে খোঁচাতাম, রাতভর আড্ডা দিতাম পুকুরপাড়ের সিঁড়িতে, একাত্মা হয়ে মিশে যেতাম কত শত পরিবেশে।
আজ বেশি কথা হলো না। বোধহয় ওর তাড়া আছে কোনো। আমাদের বিদায় নিতে হলো। স্বপ্নাবেশে নিথর আমি ভুলে গেছি—সোহাইলকে বিদায় জানিয়েছি আরও তিনবছর আগে। সেই ভয়াবহ বিষাদময় রাতে। সেই মধ্যরাতে ছুটে চলা হাটহাজারী মেডিকেলে। এরপর! এরপর একটি লাশ কোলে নিয়ে ফিরে আসা। ঘুম ভেঙে যাবার আগেই সব মনে পড়লো৷ মনে হলো—জীবন একটি মরিচীকাময় অধ্যায়। এই কত স্বপ্ন বুনে নির্ঘুম কাটায় রাতদিন, এরপর চিরনিদ্রায় হারিয়ে মানুষের গল্প বনে যায়।
১লা জুলাই, ২০২২